Subscribe Us

Labels Max-Results No.

test

মরণোত্তর চক্ষুদানের ঘোষণা ডিমলার সংবাদকর্মী আলমগীর হোসেনের, মানবতার অনন্য উদাহরণ


 স্টাফ রিপোর্টারঃ

নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার সংবাদকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবী আলমগীর হোসেন মরণোত্তর চক্ষুদানের ঘোষণা দিয়েছেন। চলতি সপ্তাহে তিনি সন্ধানী জাতীয় চক্ষুদান সমিতিতে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন। তার এই সিদ্ধান্ত মানবতার প্রতি তার অঙ্গীকার ও সমাজসেবার এক অনন্য উদাহরণ হিসেবে প্রশংসা কুড়িয়েছে।


আলমগীর হোসেনের পরিচয়:

আলমগীর হোসেন ডিমলা উপজেলার ৯নং টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোঃ জবেদ আলীর প্রথম পুত্র। তিনি একজন সংবাদকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে এলাকায় পরিচিত মুখ। তার এই সিদ্ধান্ত স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।


কেন এই সিদ্ধান্ত?

আলমগীর হোসেন বলেন, "আমি নিজেকে অন্যের কাজে লাগাতে চাই। জন্ম নিলাম, বাঁচলাম, মরে চলে গেলাম- এটা চাই না। আমি নিজেকে ব্যবহার করতে চাই।" তিনি আরও যোগ করেন, "আমি আসলে কেন জন্ম নিয়েছি, কেন বেঁচে আছি, আমার মৃত্যু কি শুধুই একটা মৃত্যু হবে? এসব চিন্তা থেকেই সিদ্ধান্ত নেয়া। আমি মৃত্যুর পরেও কারো উপকারে আসতে চাই।"

তিনি জানান, এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার পেছনে কোনো ব্যক্তিগত অনুপ্রেরণা নেই, তবে তিনি চক্ষুদান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করেছেন এবং ধর্মীয় ও আইনি দিকগুলো গভীরভাবে বিশ্লেষণ করেছেন। গত এক বছর ধরে তিনি এই বিষয়ে গবেষণা করেছেন এবং বাংলাদেশের আইন ও ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে নিশ্চিত হয়েছেন যে এটি একটি মহৎ কাজ।


পরিবারের সমর্থন:

আলমগীর হোসেন তার এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে পরিবারের সম্মতি নিয়েছেন। তিনি বলেন, "আমার পরিবারের জায়গা থেকে একটু প্রশ্ন ছিল, কিন্তু আমি যখন সামাজিক ও ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি বুঝিয়েছি, তখন তারা অনুমতি দিয়েছেন।"


ফেসবুক স্ট্যাটাসে ঘোষণা:

এর আগে এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে আলমগীর হোসেন লেখেন, "দেশের আইন মোতাবেক ও ধর্মীয় পরিপূর্ণ জ্ঞান নিয়ে, আমি আলমগীর হোসেন (সমাজসেবক) সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায়, কারো দ্বারা প্ররোচিত না হইয়া, আমার মৃত্যুর পর আমার চক্ষু দৃষ্টিহীন ব্যক্তির উপকারে কিংবা চিকিৎসা বিজ্ঞান গবেষণার কাজে সন্ধানী জাতীয় চক্ষুদান সমিতিতে চক্ষুদাতা হিসেবে রেজিঃ সফল করিয়াছি। মৃত্যুর পর চোখের মত মূল্যবান অঙ্গ প্রতিস্থাপনে কারও অন্ধকার জীবনে আলো ফিরে বাঁচুক। সবার কাছে আমার সুন্দর জীবন-যাপন ও ভালো আমল করে স্বাভাবিক মৃত্যুর দোয়া কামনা করছি। আগামীর পথ সহজ কাটুক, ভালোবাসায় কাটুক, দোয়া রাখবেন।"


স্থানীয় প্রতিক্রিয়া:

আলমগীর হোসেনের এই সিদ্ধান্ত স্থানীয়ভাবে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে মানবতার উদাহরণ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। অনেকেই তার এই মহৎ উদ্যোগকে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার পথিকৃৎ হিসেবে দেখছেন।


সন্ধানী জাতীয় চক্ষুদান সমিতির ভূমিকা:

সন্ধানী জাতীয় চক্ষুদান সমিতি আলমগীর হোসেনের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। তারা জানান, চক্ষুদানের মাধ্যমে একজন মানুষের মৃত্যুর পরও আরেকজনের জীবন আলোকিত করা সম্ভব।


সূত্র: আলমগীর হোসেন, স্থানীয় বাসিন্দা ও সন্ধানী জাতীয় চক্ষুদান সমিতি

No comments:

Recent Posts

recentposts
Powered by Blogger.