ডিমলা প্রতিনিধি | ২ মে ২০২৫
নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার তিস্তা নদী ঘেঁষা গয়াবাড়ি ইউনিয়নের শুটিবাড়ীহাটে বিপন্ন প্রজাতির কালোমুখো হনুমান দেখা দিয়েছে; বন-প্রাণিসম্পদ বিভাগের উদ্বেগের মাঝে স্থানীয় উৎসাহ
বিপন্ন প্রজাতির কালোমুখো হনুমানটি নীলফামারীর ডিমলায় লোকালয়ে দেখা গেছে। বৃহস্পতিবার (১ মে) সকাল থেকে গয়াবাড়ীর শুটিবাড়ী হাট সংলগ্ন গোলাম হোসেনের বাড়ির মেহগনি গাছে হনুমানটি চোখে পড়তে থাকে। স্থানীয়রা ধারণা করছেন, তিস্তা নদী ঘেঁষা ভারতীয় বনাঞ্চল থেকে খাবারের খোঁজে লোকালয়ে ঢুকেছে এটি; কেউ আবার বলছেন টাঙ্গাইলের মধুপুর থেকে আনারস বোঝাই ট্রাকে আসতেই পারে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হনুমানটি সকাল থেকেই শুটিবাড়ী বাজারের আশপাশে ঘুরে বেড়াচ্ছিল। শিগগিরই শতশত উৎসুক গ্রামবাসী ও বাজার এলাকার লোকজন ভিড় জমিয়ে হনুমানটিকে ঘিরে ফেলে। অনেকে প্রথমে এটিকে একটি সাধারণ বানর মনে করলেও কেউ কেউ ভাল্লুক ভেবে বিভ্রান্ত হন। ভিড়ের মধ্যে বহু মানুষ হানুমানটির ছবি এবং ভিডিও তুলতে থাকে, ফলে ঘটনাটি তৎক্ষণাৎ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
বাজারের একটি মুদি দোকানদার গোলাম রব্বানী জানান, ভিড় করা অনেকেই হনুমানটিকে আলু, ভাত, পাউরুটি ও কলা খেতে দিয়েছিল। তবে শিশুদের চিৎকার শুনে ভয় পেয়ে খানিকক্ষণ পর হনুমানটি আশ্রয় নিতে নিজের বাড়ির পাশে আমগাছের ডালে উঠে যায়। কয়েক ঘণ্টা পর পরিস্থিতি শান্ত হলে হনুমানটি আবার শুটিবাড়ী বাজারের অন্য প্রান্তের একটি বাড়ির ছাদে চলে যায়।
ডিমলা ইসলামিয়া ডিগ্রি কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রভাষক কনক কুমার অধিকারী বলেন, কালোমুখো হনুমান বর্তমানে বিপন্ন প্রাণীদের তালিকাভুক্ত। এরা সাধারণত দলবদ্ধভাবে গাছ চেপে থাকে ও শান্ত স্বভাবের, তবে খাবারের সন্ধানে এলাকায় এলেই উৎসুক জনতার ভিড়ে এইরকম দৃশ্য দেখা যেতে পারে। বন বিভাগের গোমনাটি বিট কর্মকর্তা এম. মোরশেদ আলম জানান, দলছুট হয়ে আসা এই হনুমানটি হয়তো খাবার খুঁজতে ভারত থেকে এসেছে; তাকে বিরক্ত না করে নিরাপদ দূরত্বে রাখার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। উভয় কর্মকর্তা স্থানীয়দের প্রাণীকূলের প্রতি সহনশীল ও সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
ডিমলা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মদন কুমার রায় জানান, এই কালোমুখো হনুমানের খবর পেয়ে তিনি বিষয়টি খোঁজার চেষ্টা করছেন এবং বন বিভাগকে অবহিত করেছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাসেল মিয়া বলেন, হনুমানটি দ্রুত এবং ঘন ঘন স্থান পরিবর্তন করায় তাকে দ্রুত উদ্ধার করা চ্যালেঞ্জিং; তবু স্থানীয়দের সহযোগিতায় এর উদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তিনি সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন এবং ভয়ভীতি না দেখানোর অনুরোধ জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের বর্ণনা অনুযায়ী, শুক্রবার (২ মে) ভোর ৭টায় হনুমানটি শুটিবাড়ী বাজার থেকে শুটিবাড়ী খালিশা চাপানীর ডালিয়া গ্রামের দিকে রওনা দেয়। পরবর্তীতে খালিশা চাপানি ইউনিয়নের ছোটখাতা চৌপথীর এক চায়ের দোকানে এটি কলা ও পাউরুটি খেয়ে বিশ্রাম নেয়; কিছুক্ষণ পরই সে পুনরায় অদৃশ্য হয়ে যায়। স্থানীয়রা আশা করছেন, এই বিপন্ন হনুমানটিকে নিরাপদে উদ্ধার করে বনভূমিতে ফিরিয়ে দেওয়া হবে।
তথ্যসূত্র: ঘটনাস্থল, স্থানীয় সুত্র ও উপজেলার বিভিন্ন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি অনুযায়ী প্রস্তুত।

No comments: